
ঢাকার আশুলিয়ায় উদীয়মান কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর কোনো ময়নাতদন্ত কিংবা থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই নিজ গ্রাম নীলফামারীর জলঢাকায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর আগে স্ত্রীর উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বার্তা এবং পরবর্তীতে তার বন্ধু সায়েমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্বসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। এর মধ্যেই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দ্রুত দাফন সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোহাগ উত্তরাঞ্চলের পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘তালেব ভাইজান’খ্যাত তালেব আলীর ভাতিজা হিসেবে পরিচিত। ঘটনা সম্পর্কে জানতে তালেব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সোহাগের পরিবারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত কিংবা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছেও তিনি কোনো প্রশ্ন করেননি বলে জানান।
বিষয়টির বিস্তারিত জানতে সোহাগের বড় চাচার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোনে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য দিতে হলে জনতার দেশকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার আল মিজানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে হবে। সরাসরি সাক্ষাতে তিনি বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলেও জানান।
এদিকে, মৃত্যুর আগে স্ত্রীর উদ্দেশে সোহাগের দেওয়া কথিত বার্তা এবং তার বন্ধু সায়েমের মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠছে। একই সময়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন এবং পরিবারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে সোহাগের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও বিভিন্ন বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
সোহাগের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো আইনগত অভিযোগ করা হয়েছিল কি না, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া কীভাবে দাফনের অনুমতি দেওয়া হলো এবং মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমেই এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।