
নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট।। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় চার সন্তানকে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ জুলাই উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টিপের বাজার মন্ডলটারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নাল আলী এর আগে একাধিক বিয়ে করেছেন। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই এক সন্তানসহ এক নারীকে নিয়ে এসে বিয়ে করার উদ্যোগ নিলে তার সন্তানরা এতে আপত্তি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরে জয়নাল আলী নিজের শরীরে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর গত ৯ জুলাই গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় তিনি তার মামাতো ভাই নূর খালেক, নূর মোহাম্মদসহ ১০-১২ জনকে নিয়ে সন্তানদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় জয়নাল আলীর ছেলে মো. সুজন মিয়া এবং মেয়ে মোছা. জামিলা, মোছা. জুঁই ও মোছা. শিল্পী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে জুঁইয়ের হাঁটুর নিচে ধারালো অস্ত্রের কোপ লাগে বলে পরিবারের দাবি। অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহত সুজন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বাবার নতুন বিয়ের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অপর আহত জুঁই আক্তার বলেন, বাবার একাধিক বিয়ের বিরোধিতা করায় প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। পরে ভাড়াটে লোকজন এনে তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
বর্তমানে আহতরা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নাল আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া আদিতমারী থানার পুলিশের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।