
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি।।মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে পরিচালিত ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে তিনজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের চালতারতল এলাকায় একটি চায়ের দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদক সেবনের সময় তিনজনকে আটক করেন।
অভিযান চলাকালে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চালতারতল এলাকার ওই চায়ের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি নিয়মিত আড্ডা দিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। সম্প্রতি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর ফলে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
অভিযান-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আমাদের প্রিয় লালমনিরহাটকে মাদকমুক্ত করে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। মাদক সমাজ, পরিবার এবং রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়ংকর অভিশাপ। তরুণ প্রজন্মকে এই সর্বনাশা নেশা থেকে রক্ষা করতে আমরা কোনো ধরনের আপস করব না। আজকের অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়; মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে এবং সামাজিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে লালমনিরহাটকে একটি মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু সদর উপজেলায় নয়, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে। মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।