
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি | বাছির ইসলাম:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঐতিহ্যবাহী ও জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত কালি নদী পলি জমে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট দূর করে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি বিশেষ কারিগরি দল সরেজমিনে পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ের জরিপ সম্পন্ন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের দায়িত্বশীল মহল এবং কুলিয়ারচরের মাটি ও মানুষের নেতা, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি-এর সার্বিক উদ্যোগ ও নির্দেশনায় নদী পুনরুদ্ধারের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই পাউবোর প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা নদীর বাস্তব অবস্থা মূল্যায়নে মাঠে নেমেছেন।
পাউবোর বিশেষজ্ঞ দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নদীর গভীরতা, তলদেশে জমে থাকা পলির পরিমাণ, পানির প্রবাহ এবং কোথায় কোথায় নাব্যতা সংকট সবচেয়ে বেশি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও নদীর অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় কৃষক, জেলে ও বাসিন্দারা জানান, একসময় প্রমত্তা কালি নদী এখন প্রায় মৃতপ্রায়। নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাশয়গুলোতেও পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, আবার শুষ্ক মৌসুমে নদী প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ পানি সংকট। এর ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ায় মৎস্যজীবীরাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
নদী পরিদর্শনের সময় উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম আলী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম মুছা এবং পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মুখলেছুর রহমান মঞ্জু।
তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত কালি নদীর ড্রেজিং বা পুনঃখনন কাজ শুরু করার দাবি জানান।
পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকদের মতে, কুলিয়ারচরের কৃষি, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কালি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের জরিপ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদীটির ড্রেজিং বা পুনঃখনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কালি নদী পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগে কুলিয়ারচরের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে খুব শিগগিরই প্রাণ ফিরে পাবে কুলিয়ারচরের ঐতিহ্যবাহী কালি নদী।