
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে বাবুছড়া মুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীঘিনালা জোনের আরএমও। বাবুছড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে তিনজন করে মোট ২৭ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা, আঘাত, রক্তপাত, অজ্ঞান হওয়া কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড কিট বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আরও সক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলা। প্রত্যন্ত এলাকায় জরুরি মুহূর্তে অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্থানীয় ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি বা জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করা হয়। এতে একদিকে স্থানীয় জনগণ প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে অসচ্ছল রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের সহায়তা পেয়েছেন।
দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগ শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি সময়ে নিজেদের ও আশপাশের মানুষের সহায়তায় সক্ষম করে তোলার একটি কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করার এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে জনকল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এসব জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।