শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে সতি নদী থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা সোনাহাট বন্দরে পোল্ট্রি দোকানের আড়ালে ইয়াবা বিক্রি, মাদক সম্রাজ্ঞী গেন্দি গ্রেফতার বোচাগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত ভূরুঙ্গামারীতে ‘কৃষক কার্ড’ এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনঃ ১০টি প্রধান সুবিধা পাবেন কৃষকরা ভূরুঙ্গামারীতে ক্যাসিনো সম্রাট আলাল হোসেন গ্রেফতার জুলাই শহীদ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি, শহীদদের আজীবন সম্মান ও ভাতার ঘোষণা শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে ছিনতাই আতঙ্ক, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ব্যবসায়ীদের ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এলসিএস কর্মীর মৃত্যু, আহত মোটরসাইকেল চালক লালমনিরহাটে ডিবির অভিযানে ২৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

থমকে আছে উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদলের মেগা প্রজেক্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২ ২৮৫ বার পড়া হয়েছে

আল মিজান ইসলাম,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের ভাগ্যবদল, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খরা মোকাবিলায় বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বছরের পর বছর ধরে কেবল আলোচনার টেবিলেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশাল সম্ভাবনাময় এই মেগা প্রজেক্টটি এখনো আলোর মুখ না দেখায় উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এখন চরম হতাশায় রূপ নিয়েছে।
কী আছে এই মহাপরিকল্পনায়?

প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (১ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করা। এর মূল দিকগুলো হলো:
নদী শাসন ও ড্রেজিং: তিস্তা নদীর প্রস্থ কমিয়ে গভীরতা বাড়ানো, যাতে বর্ষায় বন্যা না হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা যায়।
ভূমি পুনরুদ্ধার: নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে আধুনিক শিল্পনগরী, ইপিজেড, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা।
কৃষি ও মৎস্য চাষ: পরিকল্পিত জলাধার তৈরির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মৎস্য চাষের প্রসার ঘটানো।
স্যাটেলাইট টাউন: নদীর দুই ধারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়, ব্যাহত হয় বিশাল অঞ্চলের সেচ কাজ।
“তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি নদী শাসন প্রকল্প নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ। এটি বাস্তবায়ন হলে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার (রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যেত।

তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে এই মহাপরিকল্পনা কেবল কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি তাদের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। বছরের পর বছর ধরে বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানো আর শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালুচরের খরায় পুড়তে থাকা এই লাখো মানুষের একমাত্র দাবি—কাগজে-কলমে থাকা এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত আলোর মুখ দেখুক। এক বুক হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা তিস্তার স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতি বছর নদী আমাদের সব কেড়ে নেয়। এই মহাপরিকল্পনা চালু হলে অন্তত আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পাবে।” দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সরকার দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবে রূপ দেবে—এমনটাই এখন চরাঞ্চলের কোটি মানুষের শেষ ভরসা ও আকুল আকুতি।

Share this news as a Photo Card

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews
02 July 2026

থমকে আছে উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদলের মেগা প্রজেক্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

www.janatardeshkhantho.com |
জনতার দেশকন্ঠ