বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বোচাগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত টাঙ্গাইলে ‘Job Fair 2026’: তাৎক্ষণিক নিয়োগ ৪৪৬ জনের, এক মাসে চাকরি পাবেন আরও ১,৫৮১ জন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত শাহজাদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা, দোয়া ও বৃক্ষরোপণ সিংগাইরে যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ডের তৃতীয় ধাপের নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ শিবালয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিভিন্ন মাদরাসা পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক: ‘সিলেট ঐতিহ্যগতভাবেই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নগরী’ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয়পুরহাটে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভা

পানি কমছে, লড়াই টিকে থাকার

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

‘সারা জীবন কষ্ট কইরা যেই ঘরডা বানাইছিলাম, অই ঘরখানা নিমিষে ভাইঙা গ্যাছে। অহন পোলা, পোলার বউ আর নাতি–নাতনি লইয়া আমরা ছয়জন মানুষের থাকার আর কোনো ঠাঁই নাই। সব শেষ অইয়্যা গেল।’

কথাগুলো ষাটোর্ধ্ব রানী দেবের। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদরের সুঘর গ্রামে। বন্যায় তার কাঁচা ঘরটি ভেঙে গেছে। বন্যার পানি কমার পর ভাঙা সেই বাড়িতে ফিরেছেন তাঁরা। তবে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজারের ৫৯ উপজেলা বন্যা প্লাবিত হয়েছে। এসব অঞ্চলে বন্যার পানি কমে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে ক্ষতির চিত্র। বাসিন্দারা ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে শুরু হয়েছে টিকে থাকার নতুন লড়াই।

কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, গতকাল সোমবার বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ৫৪ জন মারা গেছেন। পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বন্যার্তদের জন্য এসব এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১ হাজার ৪৯টি। এখনো সেসব আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ।

এদিকে আরও ৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্র। জেলাগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্র বলছে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব অঞ্চল বন্যা প্লাবিত হতে পারে।

বন্যার পানি কিছুটা নেমে গেলেও এখনো নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি নওশা মিয়া। এক সপ্তাহ ধরে তিনি আছেন এক আত্মীয়র বাড়িতে। ৭৫ বছর বয়সী নওশা মিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কাথারিয়া ইউনিয়নে। তিনি বলেন, ‘পানি কমছে ঠিক, কিন্তু ঘরে ফিরলেই তো আর থাকা যায় না। আগে ঘর শুকাতে হবে, কাদা সরাতে হবে। চাল ও দেয়াল মেরামত করতে হবে। তারপর দেখা যাবে কীভাবে আবার সংসার শুরু করা যায়।’

নওশা মিয়ার মতো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের লাখো মানুষের অবস্থা একই। কোথাও পানি নেমেছে, কোথাও এখনো রয়ে গেছে। তবে ভাঙা ঘর মেরামত, কাদা সরানো, নষ্ট ফসলের ক্ষতি সামাল ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নতুন এক লড়াই শুরু হয়েছে তাঁদের।

গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লোকজন ঘরের কাদা পরিষ্কার করছেন। কেউ সরাচ্ছেন নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাব। অনেক পরিবার শুধু শুকনা খাবার খেয়েই দিন পার করার কথা জানালেন।

বাঁশখালী উপজেলার ডোংরা এলাকার শাহীন আক্তার বলেন, ‘আঁরা ক্যান গইজ্জুম (কী করব)। ক্যানে ঘর বাইন্দুম। টিঁয়া-পয়সা হডে পাইয়ুম।’

সাতকানিয়ার সদর, সোনাকানিয়া, ছদাহা, মাদার্শা, কেঁওচিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশের কিছু জায়গা থেকে পানি নেমেছে। লোহাগাড়ার সব ইউনিয়ন থেকেও বন্যার পানি সরে গেছে। তবে অনেক নিচু এলাকা এখনো জলমগ্ন।

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা থেকেও বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরছেন বাসিন্দারা।

চকরিয়ার গোবিন্দপুর এলাকার নাছিমা বেগম বলেন, পাঁচ দিন পর গতকাল তিনি ঘরে ফিরে দেখেন মেঝে ধসে গেছে। পুরো ঘর ভরে গেছে কাদায়। কাদা সরিয়ে ঘর বসবাসের উপযোগী করার চেষ্টা করছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews