
মো. গোলাম মোস্তফা, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভারত থেকে অবৈধভাবে নদীপথে গরু এনে সীমান্তবর্তী এলাকায় লুকিয়ে রেখে পরে স্থানীয় গরু হিসেবে বিভিন্ন হাটে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৪টি ভারতীয় গরুসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী ভূরুঙ্গামারী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা চারটি গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের আঘাতের চিহ্ন এবং দীর্ঘ পথ টেনে আনার কারণে পায়ের ক্ষুরে ক্ষত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, গরুগুলো সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর সীমান্তে দুধকুমার নদের ভারতীয় অংশে নির্মিত একটি বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে গরুগুলো নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে বাংলাদেশ অংশে নৌকায় অবস্থানকারী চোরাকারবারিরা সেগুলো উদ্ধার করে কালজানি ঘাট এলাকায় নিয়ে বিভিন্ন গৃহস্থের বাড়িতে রাখে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে গরুগুলো স্থানীয় গরু হিসেবে ভূরুঙ্গামারী হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হতো।
পুলিশের দাবি, এ ধরনের চোরাচালানের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় খামারিরা তাদের উৎপাদিত গরুর ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় সিমকার্ড সম্পর্কে পুলিশ জানায়, কাজিয়ার চর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় চোরাকারবারিরা যোগাযোগের জন্য ভারতীয় সিম ব্যবহার করে থাকে। পুলিশের তথ্যমতে, শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নের কয়েকশ চোরাকারবারির কাছে হাজার হাজার সচল ভারতীয় সিম রয়েছে। এর আগেও একাধিক অভিযানে ভারতীয় সিম ও বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ভারতীয় গরু, ভারতীয় সিমকার্ড, ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি, তিলাই ও পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি বড় অংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চোরাকারবারিদের সামাজিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”