
মো. শরিফুল ইসলাম ,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ।।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননাকর বক্তব্য ও আচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. শানু আকন্দ গত ২৬ জুলাই এ আদেশ প্রদান করেন। এ-সংক্রান্ত আদালতের আদেশের একটি অনুলিপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
আদেশ সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন ১৮৪/২০১৩ নম্বর মামলায় ৩ নম্বর বিবাদী হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গত ২৪ মে আদালত ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ না করার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুন আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইউএনও গণপূর্ত বিভাগের সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
এ ঘটনায় মামলার বাদীপক্ষ আদালতে একটি ভায়োলেশন মামলা দায়ের করেন। মামলার নোটিশ পাওয়ার পর ইউএনও সাবরিনা শারমিন লিখিত আপত্তি দাখিল করেন। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই আপত্তিতে আদালত ও বিচারক সম্পর্কে আপত্তিকর, কটূক্তিমূলক, আক্রোশপূর্ণ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, লিখিত আপত্তিতে বিচারককে মামলার বাদীপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশমূলক বলে মন্তব্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অবিচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
পরে আদালত ইউএনওকে এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আদালত, বিচারক ও আদালতের আইনানুগ আদেশ সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য পেশাগত নৈতিকতা, সদাচার ও দায়িত্ববোধের পরিপন্থী। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এ ধরনের আচরণ নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন। এ কারণে ইউএনও সাবরিনা শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, শাহজাদপুর চৌকি আদালতের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আদালত প্রাঙ্গণে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছিল। পরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবরিনা শারমিন ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিরাজগঞ্জকে আদালতের জায়গা-সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে আদালতের আদেশে উল্লেখিত অভিযোগ, পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।