মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বোচাগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত টাঙ্গাইলে ‘Job Fair 2026’: তাৎক্ষণিক নিয়োগ ৪৪৬ জনের, এক মাসে চাকরি পাবেন আরও ১,৫৮১ জন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত শাহজাদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা, দোয়া ও বৃক্ষরোপণ সিংগাইরে যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ডের তৃতীয় ধাপের নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ শিবালয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিভিন্ন মাদরাসা পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক: ‘সিলেট ঐতিহ্যগতভাবেই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নগরী’ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয়পুরহাটে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভা

দূর্নীতির রাজ পুত্র টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত- দেখার কেউ নেই!

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
শনিবার, ১ অগাস্ট, ২০২৬
  • শনিবার, ১ অগাস্ট, ২০২৬

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :

টাঙ্গাইল পৌরসভা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি দেশের যেকোন কর্মস্থলেই যাননাকেন দুর্নীতির রাজপূত্র হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেন ।

তথ্যমতে সম্প্রতি সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আবেগের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। টাঙ্গাই লশহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হলেও টাঙ্গাইল জেলার জন্য বরাদ্দের ৪৭ লক্ষ টাকা ৫ টি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করলেও মাত্র২০/২৫লক্ষ টাকা খরচ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান,এবারের মত অবস্থা পূর্বের কোন সময় হয়নি। পূর্বের যে কোন সময় আমরা যেই কাজ করতাম সেই কাজের টাকা আমাদের মাধ্যমেই খরচ করা হত। কিন্তু এবার এডিসি জেনারেল সঞ্জয় সাহেব আয়োজনে সহযোগিতাকারী সকলকে কৌশলে দূরে সরিয়ে নিজ হাতে সব টাকা খরচ করেন এবং নিজেই প্রকৃত খরচের অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসারকে দিয়েস ভুয়াবিল-ভাউচার বানিয়ে সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।

চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবয়নের অংশ হিসাবে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টাঙ্গাইলে আগমন উপলক্ষ্যে পৌরসভার রাস্তাঘাট মেরামত, লাইটিং ও সাজসজ্জা ইত্যাদি বাবদ১২/১৩ লক্ষ টাকা খরচ করে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী অফিসার আনিসুর সাহেবের সহযোগিতায় ৪২ লক্ষ টাকা পৌরসভা থেকে উত্তোলন করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। সাবেক পৌর প্রশাসক সিহাব রায়হানের সময়কালে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ভালো না হওয়ার তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারের বিল পরিশোধ না করে আটকিয়ে রাখেন ।

অথচ বর্তমান প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও প্রধান নির্বাহী আনিসুর রহমান মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সেই বিল ছাড় করার ব্যবস্থা করে দেন। নাম প্রকাশনা করার শর্তে পৌরসভার একাধিক কর্মচারী জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পরে কোন উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধ নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি পূর্বের তারিখ দেখিয়ে এই অবৈধ বিল পাশ করেছে। যা ঠিকাদারদের ব্যাংক হতে চেক ভাঙ্গানোর তারিখ খতিয়ে দেখলে প্রমাণ পাওয়া যাবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার বিভিন্নপাড়া-মহল্লার বহুতল ভবনের প্ল্যান পাশের জন্য চালু হয়েছে পৃথক-পৃথক প্যাকেজ । এ প্যাকেজে পৌরসভার সিন্ডিকেট বানিয়ে ফ্লোর প্রতি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ভুড়ি-ভুড়ি অভিযোগ আছে, যা টাঙ্গাইল পৌরসভার ইতিহাসে বিরল । নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়েও তাদের এত ভোগান্তি ভোগ করতে হয়নি। তারা আরো জানান তারা যদি এর প্রতিবাদ করে তাহলে হয়তো তাদের কাজ হবেনা- উল্টা তাদের অনেক হয়রানী ভোগ করতে হবে। উপায় না পেয়ে তারা অর্থের বিনিময়ে কাজ করিয়ে নেওয়াকে ভাগ্যের লিখন হিসাবে মেনে নিয়েছে।

শুধু পৌরসভাতেই নয়, তার দূর্নীতির ছোয়া আছে সর্বক্ষেত্রেই। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের জন্য বরাদ্দের সমুদয় টাকা নিয়োজিত কর্মকর্তাদের না দিয়ে তার সিংহভাগই আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বহাল তবিয়তে থাকাকালিন সময়েই গত ঈদ-উল-আযহায় পৌরসভার ভিজিএফ এর চাউল বিতরণ নিয়েও নানা অনিয়মের প্রশ্ন উঠে যা তদন্তাধীন রয়েছে।বদলি বাণিজ্যেও পিছিয়ে নেই তিনি। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সাথে যোগসাজসে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা,তহসীলদার, সার্ভেয়ারসহ নানা বদলি বানিজ্য করে অর্থের পাহাড় গড়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সময়ের বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যানদের টাকার বিনিময়ে বসিয়ে স্বপদে ।

নারী লিপ্সায়ও তার বিকল্প কেউ নেই। তিনি যে কর্মস্থলেই যান না কেন তার অধীনস্থ মুসলিম নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনতার কাছে নেশার মত। তার হিন্দু স্ত্রী পুত্র থাকা সত্ত্বেও একাধিক মুসলিমনারীর সাথে তার সম্পর্কের গুঞ্জন শুনা যায়। বর্তমানেও তিনি এক মুসলিম নারীর সঙ্গে টাঙ্গাইলে সরকারি বাসভবনে বসবাস করছেন। তার এবং এই মুসলিম নারীর একটি কন্যা সন্তান রয়েছে । যার ধর্ম পরিচয় হিন্দু না মুসলিম তা রকোন সঠিক ব্যাখা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী জানান- আমাদেরকে কথার ছলে অনেক সময় ইশারা ইঙ্গিতে মিষ্টি কথা বলেন। একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় অপরাধ করে পার পেঁয়ে যাচ্ছে যা-দেখার কেউ নেই ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি জানান, তিনি ইসকনের সদস্য হওয়ার মুসলিম নারীদের টার্গেট করে এমন করে থাকতে পারে বলে তার মনে হয়।এই কর্মকর্তার অপরাধের কোন শেষ নেই।এই নিয়ে অফিসপাড়ায়ও বিভিন্ন মহলে চলে নানা গুণঞ্জন।তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালীন সময় ৮ই এপ্রিল ২০২৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রচার হয়েছে তার দুর্নীতির সংবাদ। সে সময় তার অবহেলায় বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় ২২১ বস্তা চাউল তার বাসায় ফেলে রাখায় অনেক সংবাদমাধ্যমে সংবাদও হয়েছে।

গোপনে তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নওগাঁ জেলায় তার গ্রামের বাড়িতে পৈতৃক হিসেবে দুই কাঠা জমির উপর একটি একতলা বাড়ি রয়েছে। তিনি নিজে চাকুরিকালীন নওগাঁ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সুলতানপুরনামকস্থানে ১০ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৫ তলা পর্যন্ত রেডি একটি বাড়ি করেছেন। এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার হিন্দু ১ মস্ত্রীর নামে এবং মিরপুর ১৪তে মুসলিম ২য়স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট থাকার বিষয়ে জানা যায়। এছাড়াও নামে-বেনামে দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সম্পদ রয়েছে।দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভারতে পাচার ও ভারতে তার স্থাবর সম্পত্তি আছে মর্মেও তার ব্যাপারে জনশ্রুতি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদকেও একাধিকঅভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। যা অজানা কারনে ধামাচাপা পড়ে আছে। এ ব্যাপারে একাধিক বার টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হককে বিভিন্নভাবে অবহিত করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসকও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক)সঞ্জয়কুমার মহন্তেরসাথে মুঠোফোনে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অস্বীকার করেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় অথত চলতে বছরের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসকের কোন ভূমিকা ছিল না বলে রাজনীতিক মহলে চলছে নানা আঅেলোচনা-সমালোচনা। এতকিছুর পরও সচেতন মহলের প্রশ্ন তার দুর্নীতি ও অনিয়মের লাগাম টানার কি কেউ নেই?।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews