
বাছির ইসলাম,কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বরযাত্রী পৌঁছানোর আগেই উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ হয়ে গেল ১৩ বছর বয়সী এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। এ ঘটনায় কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) ও নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইসরাতুল জান্নাত, স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মাহফুজ আহমেদ অন্তর (২২)-এর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙিয়ে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় এবং বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি এবং আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিয়ের সব আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন, তাদের মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর এবং সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রশাসন জানায়, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এই বিয়ের আয়োজন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিভাবকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের আয়োজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
এছাড়া মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও আইন প্রয়োগমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।”