
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | মো. ফরিদ হোসেন
সাবেক মন্ত্রী, দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চার শয্যাবিশিষ্ট এই আইসিইউ চালু হলেও ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আইসিইউ সেবার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমার বাবা হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো আজও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালুর ফলে মানিকগঞ্জসহ আশপাশের জেলার সংকটাপন্ন রোগীরা উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।”
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর জিয়ারত এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সর্বস্তরের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে চার শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কর্মময় জীবন, দেশের শিল্পায়নে তাঁর অসামান্য অবদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্নু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল করিম, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন, উপাধ্যক্ষ ডা. বোরহান উদ্দিন আহাম্মেদ, কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট হারুনার রশিদ খান মুন্নু ইন্তেকাল করেন। প্রয়াণের নয় বছর পরও তাঁর কর্মময় জীবন, দূরদর্শী নেতৃত্ব, শিল্পোন্নয়নে অনন্য অবদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে মানুষের হৃদয়ে অম্লান করে রেখেছে। মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এই বরেণ্য শিল্পপতি ও জননেতাকে।