
মো. হুমায়ুন কবির ।। দিরাই প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৭ নম্বর জগদল ইউনিয়নের গরমা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুই পক্ষের বিরোধ অবশেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মীমাংসা হয়েছে। গ্রামবাসীর উপস্থিতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই মীমাংসা সভায় উভয় পক্ষ পরস্পরের প্রতি সকল অভিযোগ, ভুল-বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্ব ভুলে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করেন।
জানা যায়, গরমা গ্রামের বাসিন্দা মোতালিব মিয়া ও সুমন মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের কারণে উভয় পরিবারের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি এলাকায়ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও এবার উভয় পক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ফলে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
মীমাংসা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, দিরাই পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, জগদল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দিরাই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুরব্বি, সমাজসেবক ও এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ব্যক্তি বা পারিবারিক বিরোধ আদালত কিংবা সংঘাতের মাধ্যমে নয়, পারস্পরিক আলোচনা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান হলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সব ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে একে অপরকে ক্ষমা করে দেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের বিরোধে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে তারা করমর্দন ও কোলাকুলির মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটান, যা উপস্থিত সবার মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং দোয়া করেন, আল্লাহ যেন উভয় পক্ষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য অটুট রাখেন। পাশাপাশি তারা দোয়া করেন, ভবিষ্যতে যেন এলাকায় এ ধরনের কোনো বিরোধ সৃষ্টি না হয় এবং গরমা গ্রাম শান্তি, ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে ছোট-বড় অনেক বিরোধ আদালতের পরিবর্তে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।