
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ পিতাকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও স্ত্রীর আগের ঘরের ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন জুলহাস নামের এক মিলশ্রমিক। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত রোববার সকালে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া এর আগেও পাঁচ থেকে ছয়বার একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগী শিশুটি জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তের হুমকির কারণে এতদিন শিশুটি বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। সোমবার সকালে কান্নাকাটি করে সে তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। পরে শিশুটির মা তাকে নিয়ে বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস. আর. আনসারী বিল্টুর কাছে যান। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘিওর থানায় পুলিশকে অবহিত করেন।
বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস. আর. আনসারী বিল্টু বলেন, “ভুক্তভোগী শিশু ও তার মা পরিষদে এসে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়, যাতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
শিশুটির মা বলেন, “আমার স্বামী যে এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। ভয় দেখানোর কারণে আমার মেয়েটি এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেনি। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত জুলহাসকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।