
নাটোরের লালপুর উপজেলার মাধবপুর–সেন্টারপাড়া সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক ও যানবাহন চালকেরা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানির সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে সড়কটির কোনো কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদেরও এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। কাদা ও পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। অনেকেই কাদা মাড়িয়ে হেঁটে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরাও জানান, কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে এই সড়কের ওপরই তাদের নির্ভর করতে হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক সময় পণ্যবাহী যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ছে। এতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, একটি পণ্যবাহী ট্রাক কাদায় আটকে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকে, যার ফলে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে যায় বলে জানান তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মাধবপুর–সেন্টারপাড়া সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে সংস্কারকাজ শুরু না হলে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং জনদুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।