
মোহাম্মদ মামুন খান
হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় মোট পাশের হার ৭৩.২৯ শতাংশ। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৯০.৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।
ফলাফলের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গন্ডামারা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৪ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৮৬.২৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫০ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৮৬.২১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নীলকমল ওচমানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬৫ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৮২.২৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
এছাড়া মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৭৩.৬৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৭১.৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। বাজাপ্তি রমনীমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৬৭.৫৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
ঈশানাবালা হাইস্কুলের পাশের হার ৬৫.১৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। হাইমচর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৫৯.০৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। এমজেএস উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৫৮.০৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।
অন্যদিকে আদর্শ হাইস্কুলের পাশের হার ৫০ শতাংশ, হাইমচর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৪৭.৩৭ শতাংশ এবং চরভৈরবী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৪৫.৭১ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
হাইমচর উপজেলায় দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জনের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষকদের নিয়মিত মনিটরিং, অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং শিক্ষার্থীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কড়া নজরদারিও বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল ভালো করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ মো. শাহনেওয়াজ টেলু বলেন, বিদ্যালয়ের এ ভালো ফলাফল ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনে অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত অবদান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের বিশেষ পাঠদান, পরীক্ষার পূর্বমুহূর্তে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম ভিজিট এবং নিয়মিত বিশেষ তদারকির কারণেই এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
পরিশেষে দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন ও সহকারী অধ্যক্ষ মো. শাহনেওয়াজ টেলু বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।