
মোঃ মানিক মিয়া।। স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) হালকা গাড়ির চালক মো. সেলিম মিয়া গুরুতর দুর্ঘটনায় পা হারানো, বকেয়া বেতন না পাওয়া এবং অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ ও চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে নিজের ও পরিবারের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তার হাতে থাকা ব্যানারে চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসা ব্যয়ের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।
সেলিম মিয়া জানান, চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় বর্তমানে চার কন্যা ও দুই পুত্রসহ আট সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
কী ঘটেছিল চালক সেলিমের সঙ্গে?
সেলিম মিয়ার বক্তব্য ও তার প্রদর্শিত ব্যানারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, হালকা গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োগ পেলেও তাকে ভারী বর্জ্যবাহী গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-১৪-০৭১৩) চালাতে বাধ্য করা হয়।
তার অভিযোগ, গাড়িটি চালানোর সময় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে এর দুটি চাকা পাংচার হয়ে যায়। এ সময় কোনো লেবার বা সহায়তাকারী না পাওয়ায় দূষিত ময়লা পানির মধ্যে নেমে তিনি নিজেই গাড়ির চাকা মেরামতের চেষ্টা করেন। সেখানে তার ডান পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার
পরবর্তীতে সংক্রমণ ও গুরুতর জটিলতার কারণে তার ডান পা হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় বলে জানান সেলিম মিয়া। এ পর্যন্ত তাকে চারটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। তার দাবি, চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিদিন ওষুধ বাবদ প্রায় ৬২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। চিকিৎসার বিপুল খরচ মেটাতে গিয়ে বাড়িঘর ও সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের অভিযোগ
সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অবস্থায় তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি সাদা ও লেখা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।
পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে গেলে তাকে জানানো হয়, তিনি নাকি ১ মে ২০২৪ তারিখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
তবে সেলিম মিয়ার প্রশ্ন, তিনি যদি ১ মে ২০২৪ তারিখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে থাকেন, তাহলে মে, জুন ও জুলাই ২০২৪ মাসের বেতন কীভাবে পেয়েছেন?
তার দাবি, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দেশ ছাড়লে তার বেতন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমানের জন্য আন্দোলনের দাবি
সেলিম মিয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০০৯ সাল থেকে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি বুকে ধারণ করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি।
তার দাবি, সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার আমলে মাস্টাররোলে তার চাকরি স্থায়ী করা হলেও রাজনৈতিক কারণে তা নিয়মিত করা হয়নি।
মানবিক আবেদন
বর্তমানে পঙ্গুত্বের কারণে ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করছেন সেলিম মিয়া। তিনি তার হারানো চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং দুর্ঘটনায় পা হারানোর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয়ের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকার এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সেলিম মিয়ার ভাষ্য, তার পরিবারের সদস্যদের যেন অনাহারে দিন কাটাতে না হয় এবং তিনি যেন ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার পান—এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।