
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলা ও এর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র নাভারন এলাকায় অনলাইন জুয়া বা ডিজিটাল বেটিংয়ের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্মার্টফোন ও সহজলভ্য ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের একটি অংশ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা, নাভারন, বাগআঁচড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু চক্র বিদেশভিত্তিক অনলাইন বেটিং সাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে তরুণদের এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে লেনদেনের উৎস গোপন রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবারে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রথমে অল্প লাভের আশায় বাজি ধরলেও পরবর্তীতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকেই বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়া জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে চুরি, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি ও আসক্তির কারণে অনেক তরুণ মানসিক চাপে ভুগছেন বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।