
মানিক মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার ।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে মারধর, বাসস্থানের জমি দখল এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদেরই আপন স্বজনদের বিরুদ্ধে।
আজ ( ৯ আগষ্ট) ২০২৬ রবিবার এই ঘটনার ভুক্তভোগী মো. রাহাত (২৮) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা থানার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাহাত জন্মগতভাবেই একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। চলাচলের সুবিধার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে তাঁকে একটি বিশেষ অটো ট্রাই-সাইকেল প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগী রাহাত ও তাঁর বাবা মো. এমদাদ উল্লাহ দাপা ইদ্রাকপুর মৌজায় নিজেদের ১ শতাংশ সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, রাহাতের আপন চাচা মো. এরশাদ উল্লাহ (৩৪), চাচি আনোয়ার বেগম (৫০) এবং ফুপু রেবি বেগম (৫০)—এই বিবাদীরা জবরদস্তিমূলকভাবে তাঁদের বসতবাড়ির জমি দখল করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন। এমনকি রাহাতের চলাচলের একমাত্র বাহন ট্রাই-সাইকেলটি ভাঙচুরের চেষ্টাও করা হয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস আগে নারায়ণগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মাধ্যমে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে দুই বান টিন সাহায্য পান রাহাত। আজ ( ৯ আগস্ট) ২০২৬ রবিবার সকালে ওই টিন দিয়ে নিজ জমিতে ঘর নির্মাণকাজ শুরু করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ২ নম্বর বিবাদী আনোয়ার উল্লাহর প্ররোচনায় অন্য বিবাদীরা নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন।
প্রতিবাদ জানালে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাহাত ও তাঁর স্ত্রী সাদিয়া আক্তারকে (২০) এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় সরকারি বরাদ্দের সিমেন্ট জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিবাদীরা ট্রাই-সাইকেলের ওপর হামলা চালিয়ে তা ভাঙচুর করে বিকল করে দেয়, যার ফলে বর্তমানে ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের চলাফেরা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন যে, রাহাত ও তাঁর স্ত্রী ওই বাড়িতে বসবাস করতে পারবে না। জোরপূর্বক থাকার চেষ্টা করলে তাঁদের দুজনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মো. রাহাত জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও স্বজনদের অন্যায্য নির্যাতন ও অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি ও তাঁর স্ত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি আইনি সুরক্ষার আশায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।