
নওগাঁর ধামইরহাটে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে এক দরিদ্র কৃষকের ধানক্ষেতে বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করে ফসল নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চকশরিফ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকের প্রায় ৩০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চকশরিফ গ্রামের মো. আব্দুস সামাদের ছেলে কৃষক মো. আবু হানিফের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগী আবু হানিফ জানান, চকভাইকা মৌজার জেএল নং-১৩৭, সাবেক দাগ নং-৩৯০, হাল দাগ নং-৭৭, খতিয়ান নং-১৪৮-এর ৫১ শতাংশ জমি নিয়ে গত ১৬ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছিল। সম্প্রতি আদালতের চূড়ান্ত রায়ে জমিটির স্বত্ব ও মালিকানা তার পক্ষে আসে।
আদালতের রায় পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি ওই জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেন। তবে অভিযোগ, আদালতের রায় অমান্য করে গত ১৩ আগস্ট গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা শত্রুতামূলকভাবে তার ৫১ শতাংশ জমির ধানক্ষেতে বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করে। পরদিন সকালে ক্ষেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বিষের প্রভাবে পুরো ক্ষেতের ধানগাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় এজাজুল, মো. ফিরোজ হোসেন, এনামুল, আজিজার, কামরুজ্জামান ও ছাদেকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের মধ্যে মো. ফিরোজ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, “এ বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না।”
কষ্টার্জিত ফসল হারিয়ে নিঃস্ব কৃষক মো. আবু হানিফ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “১৬ বছর মামলা চালিয়ে আদালতের রায়ে পাওয়া জমিতে ধান বুনেছিলাম। রাতের আঁধারে শত্রুতামূলকভাবে বিষ দিয়ে আমার স্বপ্ন শেষ করে দিল। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।