
রিপন মিয়া | সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ও সায়েস্তা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পূর্ব বান্দাইল মোড় থেকে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তার মাঝখানে ভেঙে কয়েক ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ছয় গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক যুগ আগে রাস্তাটিতে মাটি ফেলা হলেও এরপর আর স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। সম্প্রতি ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি থেকে পরবর্তী অংশে ইটের সলিং করা হলেও পূর্ব বান্দাইল মোড় থেকে ওই বাড়ি পর্যন্ত অংশটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে।
দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরে পড়ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাস্তাটি দিয়ে দুটি মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, কবরস্থানে মরদেহ নেওয়াসহ স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলের জন্যও রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় ও বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় নুরু মিয়া বলেন, বছরের পর বছর রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
আব্দুল মতিন বলেন, ছয় গ্রামের মানুষের জন্য রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিল্লাল হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদা-পানি জমে যায়। বর্তমানে বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
সায়েস্তা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি ইটের সলিং করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য ভাঙা অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।
চান্দহর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুর রহমান আলাল বলেন, তিনি রাস্তার ভাঙা অংশটি পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়দের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিজ অর্থায়নে সেখানে একটি বাঁশের মাচা তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারে। এ ছাড়া ইউপি সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন বলেন, ভাঙা স্থানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাজ শুরু হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আগেই দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও ভাঙা অংশে কালভার্ট নির্মাণ করে ছয় গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা হোক।