রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, পাটগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আদিতমারিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ, প্রতিটি মণ্ডপে বডি ক্যামেরায় নজরদারির পরিকল্পনা মাদারীপুরের রাজৈরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার আদিতমারিতে জোবেদা বেগম নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্বোধন করলেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল মেলান্দহে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা বহিষ্কার মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত সন্দেহে ২ হাজার ছাড়াল রোগী, হাম শনাক্ত ৪৭ জনের জয়পুরহাটের দুর্গাদহ কলার হাটে কোটি টাকার বাণিজ্য, ভোগান্তিতে কৃষক-ব্যবসায়ীরা লালমনিরহাট সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ পাঁচবিবিতে পুকুর সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু লালপুরে অনলাইন জুয়া ও বেটিং পরিচালনার অভিযোগে যুবক আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়ম: ১ কেজির মাছ মিলছে ৫০০ গ্রাম

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
শনিবার, ২৯ অগাস্ট, ২০২৬
  • শনিবার, ২৯ অগাস্ট, ২০২৬

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ আব্দুল কাদের 



জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার সরবরাহে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের মেনু অনুযায়ী নাড়িভুঁড়ি বাদে প্রতিটি মাছের ওজন সর্বনিম্ন ১ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে আস্ত (মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ) ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট মাছ। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সরজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দুপুরের ও রাতের খাবারের জন্য বেশ কিছু ছোট আকারের মাছ রাখা আছে। ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্রে মেপে দেখা যায়, নাড়িভুঁড়ি ও আঁশ ছাড়ানোর আগেই একেকটি মাছের ওজন মাত্র ৪৯৫ গ্রাম থেকে ৫০০-৬০০ গ্রামের মধ্যে। রান্নাঘরের বালতিতে এভাবে রাখা ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি নিম্নমানের মাছ।

 

সরকারি নিয়ম ও হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী, প্রতিটি মাছের সাইজ এমন হতে হবে যেন নাড়িভুঁড়ি ফেলার পর ড্রেসড অবস্থায় তার ওজন কমপক্ষে ১ কেজি থাকে। ফলে ঠিকাদারের সরবরাহ করা মাছের ওজন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম।

এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আপনারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বাজারে নির্দিষ্ট ওজনের মাছ না পাওয়া গেলে মনগড়া বা কম ওজনের মাছ সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। এমন ক্ষেত্রে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প সমমানের খাবার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব দ্রুত রান্নাঘরে উপস্থিত হন। তিনি নিজ উপস্থিতিতে মাছগুলো মেপে প্রদেয় ওজনের ব্যাপক তফাত দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সরবরাহকৃত সব মাছ বাতিল ঘোষণা করেন এবং মেনু পরিবর্তন করে রোগীদের জন্য মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর ঠিকাদারকে বাতিলকৃত মাছগুলো প্যাকেট করে ফেরত নিয়ে যেতে দেখা যায়।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন সজল হোসেন ক্ষোভ

প্রকাশ করে বলেন, আমার চাচা বেশ কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখানে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। মাছের দিনে যে মাছ দেয় তা সাইজে খুব ছোট। মাথা ও লেজ বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয় না। রোগীদের খাবারে এই হরিলুট বন্ধে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ আব্দুল কাদেরের পাঠানো চিএে। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, মেনু ও ওজন অনুযায়ী মাছ না থাকায় সরবরাহকৃত মাছগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ মুঠোফোনে জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি, তবে বিষয়টি জেনেছি। খবর পাওয়ার পরপরই ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের ফোন দিয়ে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছি। হাসপাতালের খাবারে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews