
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের উত্তর নন্দপুর গ্রামের প্রধান সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক চরম দুর্ভোগের নাম। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি রূপ নেয় এক প্রকার মরণফাঁদে। দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার ফলে থমকে গেছে অত্র এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির কোনো সংস্কার না হওয়া এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কেবল একটু মেঘ জমলেই সড়কের বুক বেয়ে পানি জমতে শুরু করে, যা পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
শিক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস, ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা: এই খানাখন্দে ভরা ও জলাবদ্ধ রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল ও কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন এই কর্দমাক্ত ও নোংরা পানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
গত শুক্রবার বিকেলের আকস্মিক বৃষ্টির পর রাস্তাটির পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, পুরো সড়ক এখন হাঁটুসমান পানিতে ডুবে আছে। নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকা গর্তে পড়ে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এই পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, “রাস্তা পার হতে গিয়ে গত সপ্তাহেও আমি পা পিছলে ড্রেনের নোংরা পানিতে পড়ে যাই। আমার কলেজের জামাকাপড় তো নষ্ট হয়েইছে, সাথে ব্যাগে থাকা অ্যাসাইনমেন্টের খাতাগুলোও ভিজে শেষ। এই নোংরা পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া আমাদের জন্য এখন একটা শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এই পথে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে মূল্যবান বই-খাতা। অনেক শিক্ষার্থী পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহতও হচ্ছে। এমন কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল পথে প্রতিদিন যুদ্ধ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দিন দিন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও জনমনে তীব্র ক্ষোভ: সন্তানদের এই চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্থানীয় অভিভাবকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তাটা নদী হয়ে যায়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা একা এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে পারে না, কখন গর্তে পড়ে যায় সেই ভয় থাকে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখতে হয়। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই!”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি সড়ক টেকসই না হওয়ায় পুরো গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া, সময়ও অপচয় হচ্ছে দ্বিগুণ। দীর্ঘদিন ধরে এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা: এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন— ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই শিক্ষা যাত্রা কি এভাবেই ব্যাহত হবে? প্রতিনিয়ত এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কতদিন চলবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ?
উত্তর নন্দপুর গ্রামের এই প্রধান সড়কটির স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং দ্রুত রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।