বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধামইরহাটে ২০০ টাকার জাল বন্ধক নিয়ে বিরোধ, যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ; ৫ জন গ্রেপ্তার মাদক ও অনলাইন জুয়া: জয়পুরহাটে স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার বান্দরবানের লামায় মামুনুল হকের হুঙ্কার—‘গণভোট বাস্তবায়ন করতে হবে’ জয়পুরহাটে রাতের আঁধারে লাউ গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, দিশেহারা কৃষক পরিবার রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় সামনে এলো মাস্টারমাইন্ডের নাম ভূটানের প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন বোচাগঞ্জে মেডিসিন ব্যবসায়ীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় সপ্তাহে স্বাভাবিক হবে : রিজভী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি লালপুরে ৩০ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে, ভাঙন আতঙ্কে আরও বহু পরিবার

জয়পুরহাটে রাতের আঁধারে লাউ গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, দিশেহারা কৃষক পরিবার

-
আব্দুল কাদের।।জয়পুরহাট প্রতিনিধি / বার্তা পাঠানো হয়েছে
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে রাতের আঁধারে এক কৃষকের লাউ ক্ষেতের সব গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে ঋণের টাকায় চাষ করা ফসল হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তার পরিবার। ফসল ঘরে তোলার আগেই পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন এবং সংসার চালাবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের হার্টশহর গ্রামের সোনারপাড়া ফসলি মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১৬ শতাংশ জমিতে করা লাউ ক্ষেতের গাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়ে আছে। অধিকাংশ গাছের গোড়া ধারালো কোনো যন্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে। ক্ষেতের পাশে বসে ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখছিলেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তার স্ত্রী। এ সময় তাদের চোখেমুখে ছিল হতাশা ও দুশ্চিন্তার ছাপ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন জানান, তিনি এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ১৬ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ শুরু করেন। চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, বাঁশ ও মাচা তৈরি—সবকিছুতেই তাকে ধার-দেনা ও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে তিনি ক্ষেতটি পরিচর্যা করে আসছিলেন। লাউ গাছে ফলন আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জমিতে গিয়ে প্রথমে দেখতে পান লাউ গাছগুলো নুইয়ে পড়ে আছে। প্রথমে তিনি ধারণা করেন, হয়তো কোনো কারণে গাছগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো আরও ঢলে পড়তে থাকলে সন্দেহ হয়। পরে গাছের গোড়াগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পান, প্রায় সব গাছের গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের মধ্যে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে গাছগুলো কেটে দিয়েছে বলে তার অভিযোগ।

শরণ্যচন্দ্র বর্মন আরও বলেন, অনেক কষ্ট করে ঋণের টাকা নিয়ে লাউ চাষ করেছিলেন। ফসল ভালো হলে ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি সংসারের খরচ ও সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু লাউ ধরার আগেই সব গাছ কেটে দেওয়ায় তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে নতুন করে চাষ করার সামর্থ্য নেই। ফলে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ঋণ নিয়ে এইটুকু জমি বর্গা নিয়েছি। অনেক কষ্ট করে লাউয়ের ক্ষেত করেছি। লাউ ধরার আগেই শত্রুতামূলকভাবে আমাদের সব গাছ কেটে দিয়েছে। এখন আমরা কীভাবে চলব? ঘরে একটি কন্যাসন্তান আছে। তার লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। সংসারের খরচও আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের এখন চলার কোনো পথ নেই।”

স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত কষ্ট করে জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করেছিল। ফসল ফলানোর জন্য তারা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। এভাবে একটি কৃষকের ক্ষেতের সব গাছ কেটে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষকের একটি ফসল নষ্ট হয়ে গেলে শুধু ওই বছরের আয়ই বন্ধ হয় না, বরং ঋণ পরিশোধ, পরিবারের ব্যয় এবং পরবর্তী মৌসুমের চাষাবাদও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই কৃষকের ক্ষেত নষ্ট করার মতো ঘটনা কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, কৃষকের ক্ষেতের গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি ক্ষতিপূরণের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, লাউ ক্ষেতের গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকের দাবি, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে তার ক্ষেতের সব লাউ গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে তার কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এক মুহূর্তে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তার পরিবার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews