রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, পাটগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আদিতমারিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ, প্রতিটি মণ্ডপে বডি ক্যামেরায় নজরদারির পরিকল্পনা মাদারীপুরের রাজৈরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার আদিতমারিতে জোবেদা বেগম নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্বোধন করলেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল মেলান্দহে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা বহিষ্কার মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত সন্দেহে ২ হাজার ছাড়াল রোগী, হাম শনাক্ত ৪৭ জনের জয়পুরহাটের দুর্গাদহ কলার হাটে কোটি টাকার বাণিজ্য, ভোগান্তিতে কৃষক-ব্যবসায়ীরা লালমনিরহাট সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ পাঁচবিবিতে পুকুর সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু লালপুরে অনলাইন জুয়া ও বেটিং পরিচালনার অভিযোগে যুবক আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই বাড়তি বিল, সিংগাইরে গ্রাহকদের হাহাকার লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিল—দুই সংকটে সাধারণ মানুষ

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

রিপন মিয়া, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মধ্যেই এবার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অনেকের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে বাড়তি বিল আসায় পরিবারগুলোর ওপর পড়ছে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।

সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় ৭ থেকে ১০ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৬ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। অনেক সময় এর চেয়েও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর থেকেই তারা ব্যবহারে সতর্ক হয়েছেন। তারপরও জুন মাসে অনেকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ধল্লা গ্রামের অটোরিকশাচালক মহিদুর রহমান বলেন, “গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৯০০ টাকা। এবার এসেছে ১ হাজার ৭০০ টাকা।”

মেদুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, “মে মাসে বিল ছিল ৪ হাজার টাকা। জুন মাসে হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। একই গ্রামের আমার বড় ভাইয়ের বিল ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৫৬ টাকা হয়েছে।”

সিংগাইর পৌর সদরের বাসিন্দা সাংবাদিক রকিবুল হাসান বিশ্বাস বলেন, “মে মাসে আমার বিল ছিল ৮৪৭ টাকা। জুন মাসে এসেছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা।”

সাবেক পৌর কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী রিপন আক্তার ফজলু বলেন, “আমার ভবনের ১৭ জন ভাড়াটিয়ার অধিকাংশই দিনের বেলায় বাসায় থাকেন না। তারপরও প্রায় সবার বিল বেড়েছে। আমার নিজের বিলও ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার টাকা হয়েছে। বিষয়টি জোনাল অফিসের ডিজিএমকে জানিয়েছি।”

কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে।”

এ বিষয়ে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “সাধারণত প্রতি ৩০ দিন পরপর মিটার রিডিং নিয়ে বিল প্রস্তুত করা হয়। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মে মাসে টানা সাত দিনের ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিল প্রস্তুত করা হয়েছিল। ফলে মে মাসে তুলনামূলক কম ইউনিটের বিল হয়েছিল। বাকি সময়ের ইউনিট জুন মাসের বিলে যুক্ত হওয়ায় অনেকের বিল বেশি এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার নির্ধারিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাবও বিলে পড়েছে। কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল থাকলে গ্রাহক অভিযোগ করলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি বাড়তি বিলের চাপ—দুই সমস্যায় এখন বিপাকে সিংগাইরের সাধারণ গ্রাহকরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews